
নিয়ামতপুরে জায়গা দখল নিয়ে দু’পক্ষের মারামারি, আহত ৪, অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ

নিয়ামতপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ নওগাঁর নিয়ামতপুরে বাড়ীর জায়গা দখল নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে মারামারি উভয় পক্ষের ৭ জন আহত। অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ করছে উভয় পক্ষ। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের বনগাঁপাড়া (চৌরাপাড়া) গ্রামে ৫ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকালে। অভিযুক্ত জায়গার মালিকানা দু’পক্ষই দাবী করে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, বনগাঁপাড়া (চৌরাপাড়া) গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে জুয়েল গং বনগাঁপাড়া মৌজার ৩১ নম্বর খতিয়ানের ১৩ নম্বর দাগের ২২ শতাংশ জমি তাদের নিজেরে রেকর্ডী সম্পত্তি বলে দাবী করে। অপর পক্ষে একই গ্রামের মৃত- মনসরি আলীর ছেলে নূরে আলম ও তার অপর তিন ভাই ক্রয়সূত্রে ঐ সম্পত্তির মালিক বলে দাবী করে। উক্ত সম্পত্তিতে দীর্ঘদিন যাবত শান্ত মালির ছেলে দিপলাল নামে এক হিন্দু পরিবার বসবাস করে আসছিল। কিছুদিন পূর্বে তারা নিজেদের জায়গায় বাড়ী করে চলে যাওয়ায় উক্ত সম্পত্তি জয়েল গংরা বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাসে। ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার সকালে উক্ত বেড়া নূরে আলম ও তার ওয়ারিশরা তুলতে গেলে দু’পক্ষর মধ্যে দেশীয় অস্ত্র লাঠি, হাসুয়া নিয়ে মারামারি শুরু হয়। এতে জয়েলসহ তাদের ৪জন আহত হয। এদের মধ্যে মৃত- সামমন্ডলের ছেলে ইসাহকের অবস্থা গুরুতর। তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ বিষয়ে দুপক্ষই থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
এ বিষয়ে সাইদুর রহমানের ছেলে জুয়েল বলেন, উক্ত সম্পত্তি রেকর্ড মূলে আমরা মালিক। কারণ আমার দাদা উক্ত সম্পত্তির রেকর্ডমূলে মালিক। আমরা তাঁর ওয়ারিশ। আমরা হাল নাগাদ খাজনা পরিশোধ করে আসছি। কিন্তু নূরে আলম ও তার ভাইয়েরা জাল দলিল করে উক্ত সম্পত্তির মালিকানা দাবী করছে। গ্রামবাসীকে রাস্তা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছে। বুহস্পতিবার আমাদের দেওয়া বাশের বেড়া তুলতে গেলে আমরা বাধা দেই। তখন তারা লাঠি, হাসুয়া নিয়ে ১৫/২০ জন আমাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। আমার চাচাতো ভাই ইসাহাকসহ চারজন আহত হই। আমরা চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে গেলে তারা আমাদের বাড়ীতে হামলা চালায় এবং নারী ও শিশুদের মারধর করে এবং বাড়ী ভাংচুর করে। তাদের লাঠি ও হাসুয়ার আঘাতে মৃত- সাম মোহাম্মাদের ছেলে ইসাহাক (৫০), ইসমাইল (৪৫) মৃত- মতিউর রহমানের ছেলে রুহুল (২৮), ও আমি। ইসাহাক এর অবস্থা গুরুতর। তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে।
মৃত-মনসুর আলীর ছেলে নূরে আলম বলেন, আমরা খাতিয়ানের মালিক সাম মোহাম্মাদ ও আব্দুল হামিদের কাছ থেকে উক্ত সম্পত্তি ক্রয় করি এবং খারিজ করে হাল নাগাদ খাজনা পরিশাধ করি। উক্ত সম্পত্তির মালিক আমি ও আমার তিন ভাই। আমরা গ্রামবাসীর কথা বিবেচনা করে তাদের চলাচলের জন্য রাস্তা হিসাবে দান করি। ঈদের দিন বৃষ্টি হওয়ায় গ্রামবাড়ীর চলাচলে অসুবিধা হওয়ায় বৃহস্পতিবার উক্ত সম্পত্তির উপর দিয়ে চলাচলের জন্য মাটি কেটে ঠিক করার সময় জুয়েল ও তার ভাই ভাতিজারা আমাদের উপর আক্রমন করে। আমরা বেশ কয়েকজন মারাত্মকভাবে আহত হই। এ বিষয়ে আমরা থানায় মামলা দায়ের করেছি।
এ বিষেয়ে থানার অফিসার ইন চার্জ হুমায়ন কবির বলেন, উভয় পক্ষ মামলা দায়ের করেছ। আদালত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করবে।