বৃহস্পতিবার- ৩রা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ -২০শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ English Version

নবীজি রমজানে যেভাবে ইতিকাফ করতেন

নবীজি রমজানে যেভাবে ইতিকাফ করতেন

রমজানে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতসমূহের একটি ইতিকাফ। ইতিকাফ শব্দটি আরবি। এর বাংলা অর্থ হলো কোনো জিনিসকে আঁকড়ে ধরা। তাতে নিজেকে আবদ্ধ রাখা। শরিয়তের পরিভাষায় ইতিকাফ বলে আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় মসজিদে অবস্থান করা। সকল মানুষ ও সংসারের সকল কাজ কর্ম থেকে দূরে থাকা। সওয়াবের কাজ; নামাজ, জিকির ও কুরআন তেলাওয়াত ইত্যাদি ইবাদতে নিজেকে ব্যস্ত রাখা। ইতিকাফ সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘আমি ইবরাহিম ও ইসমাইলকে নির্দেশ দিয়েছি, তোমরা আমার গৃহকে তাওয়াফকারী, ইতিকাফকারী ও রুকু-সিজদাকারীদের জন্যে পবিত্র করো।’(সুরা বাকারা ১২৫)

এ আয়াত থেকে স্পষ্টই বোঝা যায় হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সাল্লামের সময়েও ইতিকাফ বিধিবদ্ধ ছিলো।

নবীজির ইতিকাফ

রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় হিজরতের পর প্রতি বছর ইতিকাফ করতেন। ইতিকাফের দিনগুলোতে তিনি অধিক পরিমাণে রাত্রি জাগরণ করতেন। ইবাদতে কাটিয়ে দিতেন পুরো রাত।

 ইসহাক ইবনু ইবরাহিম হানযালী ও ইবনু আবু উমর রহ. হজরত আয়িশা রা. থেকে বর্ণনা করেন, রমজানের শেষ দশক শুরু হওয়ার সাথে সাথে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সারা রাত জেগে থাকতেন ও পরিবারের সদস্যদের ঘুম থেকে জাগাতেন এবং তিনি নিজেও ইবাদতের জন্য জোর প্রস্তুতি নিতেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৬৫৮)

রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি রমজানে ইতিকাফ করতেন। ইতিকাফ করতেন নবীপত্নী ও কন্যাগণসহ অন্যান্য সাহাবি রাদিআল্লাহু আনহুম।

কুতায়বা ইবনু সাদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি হজরত আয়িশা রাদিআল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন, ‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকালের পূর্ব পর্যন্ত রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন। তার ইন্তেকালের পর তার সমধর্মিগীগণও ইতিকাফ করতেন।’(সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৬৫৫)

 অন্য হাদিসে হজরত আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, রসুল সা. প্রতি রমজানে ১০ দিন ইতিকাফ করতেন, তবে ইন্তকালের বছরে তিনি ২০ দিন ইতিকাফে কাটান। (বুখারি, হাদিস ১৯০৩)

ইতিকাফে নিষিদ্ধ কাজ

ইতিকাফে থাকাকালীন অতিরিক্ত পানাহার, অধিক ঘুম ও মানুষের সঙ্গে অধিক মেলামেশা থেকে বিরত থাকা কর্তব্য। কেননা এসব বিষয় অন্তরে অস্থিরতা ও পেরেশানি বৃদ্ধি করে। ফলে ইবাদতের প্রফুল্লতা কমে যায়। তাই ইতিকাফের সময় রোজা রাখাকে শর্ত করা হয়েছে। কারণ, রোজা মানুষকে অনর্থ ও অশ্লীলতা থেকে বিরত রাখে। আত্মাকে সংযম করে।

 ইতিকাফ অবস্থায় প্রয়োজন ছাড়া মসজিদ থেকে বের হওয়া, ঝগড়াবিবাদ, পরনিন্দা এবং স্ত্রী সহবাস নিষিদ্ধ। আল্লাহ বলেছেন, ‘আর যতক্ষণ তোমরা ইতিকাফ অবস্থায় মসজিদে অবস্থান কর, ততক্ষণ পর্যন্ত স্ত্রীদের সাথে যৌনকর্ম করো না।’ (সুরা বাকারা, আয়াত ১৮৭)

ইতিকাফের ফজিলত

ইতিকাফের ফজিলত অনেক। হজরত রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ইতিকাফকারী সর্ব প্রকার পাপ হতে মুক্ত থাকে এবং অন্যরা বাইরে আমল করে যে নেকি লাভ করে, সে ইতিকাফে থেকে বাইরের আমলগুলো না করেও সেই পরিমাণ নেকি লাভ করে। (ইবনে মাজাহ, হাদিস ১৭৮১)

নবীজি আরো বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজানে দশ দিন ইতিকাফ করবে, তার এই ইতিকাফ নেকি ও শ্রেষ্টত্বের বিবেচনায় দুটি হজ ও দুটি ওমরার সমপর্যায়ের হবে।’ (শুআবুল ঈমান, বায়হাকি, হাদিস ৩৬৮০, ৩৬৮১)

অন্য হাদিসে আছে ইতিকাফকারী প্রতিদিন একটি করে হজের সওয়াব পায়। (শুআবুল ঈমান, বায়হাকী ৩৬৮২)

 হাদিসে ইতিকাফের এমন বহু ফজিলত বর্ণিত আছে। এতো এতো ফজিলতের কারণে সাহাবিদের ভেতর ইতেকাফের যথেষ্ট গুরুত্ব ছিল। রমজান শেষ দশদিনে তারা মসজিদে চলে আসতেন, ইতিকাফ যাপন করতে। আমাদেরও উচিৎ ইতিকাফে গুরুত্ব দেওয়া। এর মাধ্যমে পুণ্য অর্জন করে জান্নাতের পথ সুগম করা।

১১ বার ভিউ হয়েছে
0Shares

COMMENTS