
তেঁতুলিয়ায় ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে চাল চাইতে গিয়ে মারধরের শিকার অসহায় নারী

তেঁতুলিয়া উপজেলা প্রতিনিধি: তেঁতুলিয়ায় ভিজিডি চাল চাইতে গিয়ে তিরনইহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের হাতে মারধরের শিকার হয়েছেন হালিমা খাতুন (৫২) নামের অসহায় এক নারী। তিনি খয়খাট পাড়া গ্রামের নজরুল ইসলাম (বোদা) স্ত্রী। গত সোমবার দুপুরে উপজেলার তিরনইহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসাইনের হাতে মারধরের শিকার হন এ অসহায় নারী। এ ঘটনায় ওই নারী থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগে জানা যায়, ওই অসহায় নারী তিরনইহাট ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর হোসাইনের কাছে ভিজিডি ১০ কেজি চাল সহযোগিতা চান। দীর্ঘ সময় তাকে বসিয়ে রেখে চেয়ারম্যান সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের মেম্বারের কাছে কার্ড আনতে বলেন, আবার মেম্বারের কাছে গেলে মেম্বার দেখান চেয়ারম্যানকে। চাল বিতরণ শেষে আবার চাল সহায়তা চাইতে গেলে চেয়ারম্যান উত্তেজিত হয়ে মারধর করতে থাকেন। মারধরের শিকার হয়ে ওই নারী কান্না করতে করতে বিচার চেয়ে মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন।
বিষয়টি জানতে মঙ্গলবার সকালে এলাকায় গিয়ে জানা যায়, ওই নারী ভিক্ষাবৃত্তি করে সংসার চালান। তার স্বামী নজরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে পাইলস, লিভার ও হার্নিয়া জটিল রোগে ভুগছেন বলে জানা যায়। সম্প্রতি হার্নিয়া রোগে অপারেশন করে কর্মহীন অসহায় অবস্থায় জীবন যাপন করছেন।
ভুক্তভোগী হালিমা জানান, আমি খুবই অসহায় নারী। ঘরে স্বামী অসুস্থ। ভিক্ষা করে সংসার চালাচ্ছি। কাল (সোমবার) বিকেলে ইউনিয়ন পরিষদে ভিজিডি চাল দিচ্ছে জেনে চেয়ারম্যানের কাছে ১০ কেজি চাল সাহায্য চাই। কিন্তু আসর নামায পর্যন্ত আমাকে বসিয়ে রাখার পর চাল চাইতে গেলে চেয়ারম্যান চাল তো দিলই না, উল্টো আমাকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়, কিল-ঘুষি দিয়ে মারধর করে। মাটিতে পড়ে গেলে আমার পেটের উপর লাথি মারার সময় চৌকিদাররা চেয়ারম্যানকে সরিয়ে নেন। মারধরের শিকার হয়ে কাতরাতে কাতরাতে বাড়িতে চলে আসি। ইউএনও স্যারের কাছে গিয়ে বিচার চাইলে তিনি থানায় অভিযোগ করতে বললে থানায় অভিযোগ করি।
নির্বাহী অফিসার সোহাগ চন্দ্র সাহা বলেন, আমার কাছে ওই নারী এসেছিলেন। বিষয়টি জেনে পরামর্শ দিয়ে তাকে পাঠিয়ে দেই।
তবে অভিযোগটি মিথ্যা ও বানোয়াট বললেন চেয়ারম্যান আলমগীর হোসাইন। তিনি জানান, আগের চেয়ারম্যান তাকে দেয়া জন্ম সনদটি আদালত হতে ভেরিফাই করে জাল প্রমাণিত করাই ছিল আমার অপরাধ। মুলত আমাকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানোর জন্য এ অভিযোগ করা হয়েছে।
মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আবু ছায়েম মিয়া বলেন, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।।
৩৫ বার ভিউ হয়েছে