
তিন বছরেও উদ্ধার হয়নি বেনাপোল কাস্টমস হাউজের চুরি যাওয়া স্বর্ণ ১৭ লক্ষ টন পাথর উধাও’র ও নেই কোন সুরাহা

আব্দুল মান্নান, শার্শা(যশোর) সংবাদদাতাঃ নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে থেকে বেনাপোল কাস্টমস থেকে প্রায় ৩ বছর আগে ১৯ কেজি স্বর্ণ চুরি হলেও এর মুল হোতারা থেকে যাচ্ছে ধরা ছোয়ার বাইরে। গত ৮/১১/২০১৯ তারিখে কাস্টমস হাউজের ভোল্ট ভেঙ্গে চুরি হয়ে য্য়া ১৯ কেজি স্বর্ণ সহ মুল্যবান কাগজপত্র ও ডলার। ওই চুরির দায়ে ওই সময় রাজস্ব কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, কাস্টমস সিপাই পারভেজ খন্দকার, এনজিও কর্মী আজিবর, মহব্বত, সুরত আলী, টিপু সুলতান ও আলাউদ্দিন।এসব এনজিও কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে বেনাপোল কাস্টমস হাউজে মাষ্টাররোলে কাজ করে।
বিগত প্রায় তিনটি বছর হতে গেলেও ওই চুরি যাওয়া স্বর্ণ কোথায় আছে কি ভাবে আছে কে চুরি করল তার কোন সুরাহা না হওয়ায় জনমনে নানা ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। বেনাপোল বড়আচড়া গ্রামের শেখ মাসুদুর রহমান বলেন, যেখানে সিসি ক্যামেরা, আনছার বাহিনী আবার কাস্টমস সিপাই ২৪ ঘন্টা কর্তব্য পালন করছে সেখান থেকে কি ভাবে চুরি হলো। এর সাথে খোদ কাস্টমস এর রাঘব বোয়ালরা জড়িত আছে কি না তা ক্ষতিয়ে দেখা উচিৎ । ওই সময় কাস্টমস এর বড় কোন কর্মকর্তা বরখাস্থ বা চাকুরিচ্যুতি ও হয়নি। একেবারে নি¤œ পর্যায়ের কর্মচারীদের দোষারোপ করে হাজত বাস করিয়েছে।বেনাপোল কাস্টমস হাউজের ওই স্বর্ণ চুরির পর এবার উদ্ধার হয়েছে একটি পরিত্যাক্ত ভবন থেকে ৪ টি ওয়্যান শুওয়ারটারগান। এর সাথে কে বা কারা জড়িত তারও কোন উত্তর মেলেনি। তবে সাধারন জনগন এর অভিমত ওই পরিত্যাক্ত ভবনে অবৈধ জিনিসপত্র রাখে কাস্টমস এর লোক। তারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দুর্নীতির সাথে জড়িত। এরা আমদানি কারকদের সহায়তা করে থাকে আমদানি পণ্যর সাথে ঘোষনা বহির্ভুত পণ্য আনতে। এস এস কোড পরিবর্তন করে ও সরকারের অনেক শুল্ক ফাকির ঘটনা ঘটেছে এই বন্দরে। গেল বছর বেনাপোল বন্দর থেকে প্রায় ১৭ লক্ষ টন পাথর গায়েব এর অভিযোগ উঠেছে। তার সাথে বর্তমান কাস্টমস কমিশনারের ভাই জড়িত বলে অনেকে মন্তব্য করেছেন। প্রায় আমদানি পণ্যর মধ্যে থেকে উদ্ধার হয় ঘোষনা বহিভর্‚ত পণ্য ও মাদক। সম্প্রতি বেনাপোল বন্দরের কাচামালের ইয়ার্ড থেকে জাতিয় গোয়েন্দা সংস্থা (এন এস আই) এর তথ্যের ভিত্তিতে উদ্ধার হয় ফেনসিডিল, মদ, শিষা জাতিয় মাদক, ও যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট। এরকম অনেকবার এই বন্দর থেকে অবৈধ পণ্যর চালান আটক হলেও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সম্প্রতি রয়েল এন্টারপ্রাইজ নামে একটি সিএন্ড এফ এজেন্ডের ৩৯ ট্রাক পণ্য বের হয় শুল্ক ফাকি দিয়ে। পরে জানাজানি হয়ে গেলে দুই দিন পর শুল্ক পরিশোধ করে। কি ভাবে এত নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে বের হলো ৩৯ টি ট্রাক। এ নিয়ে ও চলছে নানা ধরনের জল্পনা কল্পনা। ওই পণ্য বের হতে কে সহযোগিতা করেছিল তার কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা নিয়েও চলছে নানা আলোচনা সমালোচনা। কাস্টমস কমিশনারের ভাই প্রতিটি অবৈধ পণ্যের ছাড়পত্র করানোর জন্য দালালি কাজে নিয়োজিত রয়েছে বলে একাধিক ব্যাক্তিরা মন্তব্য করেছেন।