
ঘূর্ণিঝড় ‘অশনি’র মোকাবেলায় দশমিনায় ১৪৮স্কুলকাম সাইক্লোন সেন্টার প্রস্তুত

সঞ্জয় ব্যানার্জী, দশমিনা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি : বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অশনি’র প্রভাবে বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছে পটুয়াখালীর দশমিনায়। প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অশনি’মোকাবেলায় প্রস্তুত করা হয়েছে এ উপজেলায় ১৪৮টি স্কুলকাম সাইক্লোন সেন্টার প্রস্তুত রয়েছে। সাইক্লোন সেন্টারগুলোতে ৬৫হাজার মানুষের পাশাপাশি ২০হাজার গবাদিপশুও রাখা যাবে। সোমবার সকাল থেকেই মঙ্গলবার দিনভর চলছে টানা গুড়ি গুড়ি ও মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত। ‘অশনি’র প্রভাবে টানা বর্ষণে ফসলের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
উপজেলা রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি ও ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘অশনি’ উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে।
আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, মঙ্গলবার সকাল ৬টার দিকে অশনি চট্টগ্র্রাম সমদ্রবন্দর থেকে ১হাজার ১শ’ ৩০কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১হাজার ৮৫কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমদ্রবন্দর থেকে ১হাজার ৫কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, পায়রা সমদ্রবন্দর থেকে ১হাজার ৫কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। ঘূর্ণিঝড়টি আরও উত্তর-পশ্চিমের দিকে অগ্রসর হতে পারে। প্রবল ঘূর্নিঝড় কেন্দ্রের ৬৪কিলোমিটার এর মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বচ্চ গতি বেগ ঘন্টায় ৮৯ কিলোমিটার যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১১৭ কি.মি. পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ কারণে পায়রা সমদ্র্রবন্দরকে ২ নম্বর সতর্ক সঙ্কেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অফিস।
উপজেলা দক্ষিন দাশ পাড়া গ্রামের কৃষক মো.আলম হাওলাদার এবার ৩৫শতাংশ জমিতে চীনাবাদাম আবাদ করেছেন। তবে গত তিন দিনের বৃষ্টিতে সে চিন্তায় পড়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় আসবে বলে শুনেছি। একই গ্রামের অণ্য চাষি সংকর চন্দ্র বলেন, আমি ১একর জমিতে মুগডাল, ৩২শতাংশ জমিতে বাদাম আর ৫০শতাংশ জমিতে মরিচ চাষ করেছি। গত কয়েক দিন শ্রমিক সংকট ছিলো ডাল ঘরে তুলতে পারিনি। কিন্ত এ বৃষ্টিতে আমার সব শেষ হয়ে যাবে মনে হচ্ছে।’
উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মো. জাফর অহাম্মেদ বলেন, এ উপজেলার দুই হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আর ১৩হাজার ২শ’ হেক্টরে মুগডাল চাষ হয়েছে। এর মধ্যে বেশির ধান ও ডাল ঘরে তোলার উপযোগী হয়েছে। বৃষ্টিপাত যদি অব্যাহত থাকে তাহলে ফসলের ক্ষতি হতে পারে। তাই কৃষকদের দ্রæত বোরো ধান কেটে ঘরে তোলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে যে হারে বৃষ্টি হচ্ছে তাতে বোরো ধান বা রবি ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা কম। তবে বৃষ্টি বাড়লে ক্ষতির পরিমাণ বাড়বে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো: মহিউদ্দিন আল হেলাল বলেন, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় আমরা প্রাথমিক পর্যায়ে প্রস্তুতি নিয়েছি। সঙ্কেত বাড়লে জরুরি সভা ডেকে ‘অশনি’ মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে এলার্টটিম গঠনসহ উপজেলায় কন্টলরুম খোলা হয়েছে।