
কুড়িগ্রামে তীব্র গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ

মোঃবুলবুল ইসলাম,কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি: দেশের উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামে টানা দুই সপ্তাহের প্রখর সূর্য আর তীব্র তাপদাহে জনজীবন অতিষ্ট হয়ে পড়েছে। প্রচন্ড গরমে সাধারণ ও কর্মজীবী মানুষেরা অস্বস্তিতে পড়েছেন। তাপমাত্রা জনিত কারণে শিশু ও বৃদ্ধরা চরম দূর্ভোগে পড়েছেন।
টানা দুই সপ্তাহ ধরে প্রখর রোদে ঘাম ঝরানো তাপমাত্রার কারণে শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষজন চরম বিপাকে। বিশেষ করে তীব্র রোদের তাপের কারণে দিন মজুর, রিকশাচালক, ঠেলা ও ভ্যানচালকরা কাজে করতে পারছেন না। ফলে তীব্র তাপদাহে অনেকে অলস সময়ও পাড় করতে দেখা গেছে।
আবার অনেকেই জীবন-জীবিকার তাগিদে প্রচন্ড তাপদাহ উপেক্ষা করে কাজে বেড়িয়েছেন। তীব্র গরমে বয়স্ক ও শিশুরা পড়েছে সব থেকে বেশি ভোগান্তিতে । একটু স্বস্তি পেতে ঠান্ডা শরবত,পানি, আইসক্রীম খেয়ে তৃষ্ণা মেটানোর চেষ্টা সাধারণ মানুষের।
বৃষ্টিহীন তীব্র গরমে আগামী ৭২ ঘন্টা পর্যন্ত নেই কোন সুখবর। গেল এক সপ্তাহ ধরে এ উপজেলায় তাপমাত্রা গড়ে ৩৫ ডিগ্রী ওঠানামা করছে। তিন চার দিন আরো তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার আশংকা রয়েছে।
বৃষ্টিপাত না হওয়ায় এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে জীব-বৈচিত্রের উপরও। এমন প্রচন্ড গরমে নাভিশ্বাস উঠেছে জেলাবাসীর। এতে করে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষজন। একটু শীতলতার জন্য শিশু-কিশোর সকলেই পুকুর-নদী,বিলে ছোটাছুটি করছে।
অসহনীয় প্রচন্ড গরমে গ্রামাঞ্চল কিংবা শহরে শিশু,বয়স্কদের জ্বর-সর্দি ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে পড়ছে। তাপের কারণে নানা বয়সিদের দেখা দিয়েছে চর্ম রোগও।
তীব্র তাপদাহে কয়েকদিন থেকে জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে মানুষের সমাগম কিছুটা কমেছে। প্রচন্ড গরমেই ব্যবসায়ী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধও রেখেছেন।
প্রচন্ড তাপদাহ থেকে একটু স্বস্তি পেতে কেউ কেউ গাছের তলে বাঁশের টং বানিয়ে আশ্রয় নিচ্ছে। অনেকে আবার ঘন ঘন ঠান্ডা পানিতে গোসল করছে।
উপজেলার কুরুষাফেরুষা এলাকার ভ্যান চালক বাবল চন্দ্র বর্মন ও হাক্কু মিয়া জানান , গত এক সপ্তাহে প্রচন্ড তাপদাহের কারণে ঠিকমতো কাজে যেতে পাচ্ছি না।
গরমে কাজ করতে না পেয়ে আয় কমে গেছে। আগে দিনে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় করা যেতো। এখন প্রচন্ড গরমের কারণে সারা দিনে ২০০ টাকা আয় করা মুশকিল হয়ে পড়েছে।
একই এলাকার সুচিত্রা রানী রায় বলেন, প্রচন্ড গরম পড়েছে। বাচ্চা নিয়ে খুবই সমস্যায় আছি। ঘরের মধ্যে থাকায় যায়না। গা জ্বলে। আমার তিন সন্তানের গত কয়েকদিন থেকে জ্বর-সর্দি ও কাশিতে ভুকছে। জানি না কবে বৃষ্টির দেখা মিলবে।
ফুলবাড়ি উপজেলার বালারহাট বাজারের ভ্যান চালক আব্দুস সাত্তার ও জহুরুল হক জানান, জীবনের এই প্রথম রৌন্দের তাপমাত্রা বাহে ! জীবন-বাঁচার তাগিতে রিকশা চালিয়ে আমাদের সংসার চলে। গত কয়েকদিন ধরে এত তাপদাহ সহ্য করার মত নয়।
পেটে খেলে সব কিছুই সহ্য করতে হয়। তাই প্রচন্ড গরমেই রিকশা চালাচ্ছি। এক আট্টা ক্ষ্যাপ মেরে আবার গাছ তলায় রিকশার মধ্যেই বসে শুয়ে একটু দম নেই বাহে !
কাশিপুর এলাকার ভ্যান চালক তৈয়ব আলী ও জোনাব আলী বলেন, কয়েক দিন ধরে যে তাপ উঠছে ভ্যান নিয়া পাকা রাস্তায় বের হওয়া যাচ্ছে না। চাকা পানচার হয়ে যায় গরমে। এই গরমের মধ্যে ভাড়াও কমে গেছে। জানি না এ রকম প্রখর রোদ আর কত দিন থাকবে !
কুড়িগ্রাম রাজারহাট আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যেবক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুস সবুর মিয়া জানান, আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
টানা বৃষ্টিপাত না হওয়ায় দিনের তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি পাবে। তিনি জানান,ফুলবাড়ীসহ কুড়িগ্রাম জেলা জুড়ে গত এক সপ্তাহ ধরে গড়ে তাপমাত্রা ৩৪ থেকে৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বিরাজ করছে।