
ইলিশ মৌসুম সামনে রেখে পটুয়াখালীতে নৌকা ও ট্রলার তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা

সঞ্জয় ব্যানার্জী, পটুয়াখালী প্রতিনিধি ; টুয়াখালীতে ইলিশ মৌসুম সামনে রেখে উপক‚লে মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলার তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা। এসব নৌকা ও ট্রলারে ইঞ্জিন বসানোসহ রংয়ের কাজ চলছে পুরোদমে। পাশাপাশি আরো অর্ধশতাধিক নৌকা তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কারিগররা।
জানা যায়, দশমিনা উপজেলার অসংখ্য মানুষ তেঁতুলিয়া, বুড়াগৌরাঙ্গ ও সাগরে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। আর নদী বা সাগরে মাছ ধরার অন্যতম উপকরণ হচ্ছে নৌকা বা ট্রলার। প্রতিবছর ইলিশ মৌসুম সামনে রেখে এসব এলাকায় নৌকা তৈরি ও মেরামতের কাজ চলে। এ বছরও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি জোরেশোরে চলছে নৌকা ও ট্রলার তৈরির কাজ। তাই বাজারে কাঠের দাম বেশি হলেও কারিগররা নৌকা তৈরিতে মনোযোগ দিয়েছেন।
সরেজমিন ঘুরে বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের বাঁশবাড়িয়া লঞ্চঘাট, দশমিনা ইউনিয়নের হাজীর হাট, গোলখালী, কাটাখালী, কালারানী, রনহেগাপালদী ইউনিয়নের আউলিয়াপুর, যৌতা ও চরবোরহান ইউনিয়নের পাগলা বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে নৌকা-ট্রলার তৈরি ও মেরামতের দৃশ্য চোখে পড়েছে। আর কাঠমিস্ত্রিদের পাশাপাশি নৌকার মালিকরা নৌকা তৈরির উপকরণ সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।
উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের বাঁশবাড়িয়া গ্রামের মোঃ শাহ আলম খাঁ, কবির হোসেন ও লাল মিয়া বলেন, আমাদের ইউনিয়নে প্রায় সাড়ে ১০হাজারের বেশি মানুষ মৎস্যজীবী। এরা নদী ও সাগরে মৎস্য আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। একটি নৌকা বানাতে খরচ হয় প্রায় ১লাখ ৮০হাজার থেকে দুই লাখ টাকা। আর বড় ট্রলার হলে কমপক্ষে সাড়ে ৫লাখ থেকে ৬লাখ টাকা খরচ পড়ে।
উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের বাঁশবাড়িয়া গ্রামের নৌকার কারিগর (কাঠমিস্ত্রি) জসিম উদ্দিন জানান, ছোট-বড় নৌকা ও ট্রলার তৈরিতে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের কাঠ ব্যবহার করা হয়। বিশেষ করে চামবুল, মেহেগুনী, আকাশি, কাঁঠাল, কড়ই গাছের কাঠ বেশি ব্যবহার হয়। তিনি আরও জানান, এই উপজেলায় ২শতাধিক কাঠমিস্ত্রি রয়েছে। বেশি কম সকলে এখন নৌকা তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।###