শুক্রবার- ৪ঠা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ -২১শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ English Version

আজীবন বাঁচিয়ে রাখতে কবি সরোজ দেব স্মরণ অনুষ্ঠানে তিন দাবি 

আজীবন বাঁচিয়ে রাখতে কবি সরোজ দেব স্মরণ অনুষ্ঠানে তিন দাবি 

গাইবান্ধা প্রতিনিধি   ; সরকারি ওয়েব পোর্টাল ‘গাইবান্ধা ডট গভ ডট বিডি’তে প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব শিরোনামে ‘বিশিষ্ট কবি ও সাহিত্যিক’র তালিকায় কবি সরোজ দেব’র নাম অন্তর্ভুক্ত, গাইবান্ধা পাবলিক লাইব্রেরী অ্যান্ড ক্লাবের পাঠাগারে ‘কবি সরোজ দেব কর্নার’ স্থাপন এবং প্রতি বছর ফেব্রুয়ারিতে ‘কবি সরোজ দেব বইমেলা’ করার দাবি তোলা হয়েছে। বুধবার (২ এপ্রিল) দুপুরে নজরুল চর্চাকেন্দ্রের আয়োজনে গাইবান্ধা জেলা শহরের পলাশপাড়া এলাকায় গাইবান্ধা ক্লিনিক মিলনায়তনে কবি সরোজ দেব স্মরণে ‘তুমি কোন পথে এলে হে মায়াবী কবি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এসব দাবি তোলা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নজরুল চর্চাকেন্দ্রের উপদেষ্টা প্রফেসর মো. খলিলুর রহমান ও সঞ্চালনা করেন সদস্য শাহজাদী হাবিবা সুলতানা পলাশ। অনুষ্ঠানের শুরুতে কবি সরোজ দেব স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। এরপর স্বাগত বক্তব্য রাখেন নজরুল চর্চাকেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ফেরদৌসি জাহান সিদ্দিকা।

স্মৃতিচারণা করে বক্তব্য রাখেন শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক মাজহারউল মান্নান, জেলা উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সভাপতি জহুরুল কাইয়ুম ও সদস্য চুনি ইসলাম, গাইবান্ধা জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি সেকেন্দার আযম আনাম, নজরুল চর্চাকেন্দ্রের উপদেষ্টা আফরোজা বেগম লুপু ও ডা. একরাম হোসেন, জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমির প্রশিক্ষণ বিশেষজ্ঞ শামীম মাহবুব, বাংলাদেশ প্রগতি লেখক সংঘ গাইবান্ধা জেলা শাখার সভাপতি দেবাশীষ দাশ দেবু ও সাধারণ সম্পাদক রজত কান্তি বর্মণ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট গাইবান্ধা জেলা শাখার সাবেক সভাপতি সাখাওয়াৎ হোসেন বিপ্লব, এটিএন তারকা সংগীত শিল্পী রেজওয়ানুল হক রেজওয়ান ও কবি সরোজ দেবের ছেলে শুভময় দেব জয় প্রমুখ।

উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর সমীর কুমার সরকার, আইনজীবী কাসেম ইয়াসবীর, আলোকচিত্রী সাংবাদিক কুদ্দুস আলম, দৈনিক মাধুকরের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মোদাচ্ছেরুজ্জামান মিলু, সাহিত্যকর্মী পিটু রশিদ, নজরুল চর্চাকেন্দ্রের সাংগঠনিক সম্পাদক রানা পাপুল, সদস্য তাসদীদ সোয়াদ, আরাফাত সাদীদ, জাহাঙ্গীর আলম, রিয়াদ রহমান ও পরিবর্তন পাঠাগারের সভাপতি নাবিল আহমেদ প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, কবি সরোজ দেব ছিলেন সর্বজন প্রিয় সম্পাদক, সংগঠক, লিটলম্যাগ আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃত ও গুনীজন। তার শুন্যতায় গাইবান্ধার সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গন একজন অভিভাবক হারিয়েছে। তিনি ছিলেন হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার মতো। তার হাত ধরে তৈরি হয়েছে অনেক কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও সংগঠক। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতো দেখতে সাদাসিধে কবি সরোজ দেব ছিলেন শিশুদের কাছে অত্যন্ত পছন্দের একজন মানুষ।

বক্তারা আরও বলেন, কবি সরোজ দেব তার কর্মের মাধ্যমে আমাদের মধ্যে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। এজন্য কবি সরোজ দেবকে আজীবন বাঁচিয়ে রাখতে সরকারি ওয়েব পোর্টাল ‘গাইবান্ধা ডট গভ ডট বিডি’র জেলা সম্পর্কিত ক্যাটাগরির ‘প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব’ শিরোনামে ‘বিশিষ্ট কবি ও সাহিত্যিক’র তালিকায় কবি সরোজ দেব’র নাম অন্তর্ভুক্ত, গাইবান্ধা পাবলিক লাইব্রেরী অ্যান্ড ক্লাবের পাঠাগারে ‘কবি সরোজ দেব কর্নার’ স্থাপন এবং প্রতি বছর ফেব্রুয়ারিতে ‘কবি সরোজ দেব বইমেলা’ করার দাবি জানান বক্তারা। স্মৃতিচারণামূলক এই অনুষ্ঠানে কবি সরোজ দেবের ছেলে, ভক্ত, শুভাকাঙ্খী, সাহিত্যানুরাগী ও পরিচিতজনরা উপস্থিত ছিলেন।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ৭৭ বছর বয়সে গাইবান্ধা জেলা শহরের পূর্বপাড়ার পৈত্রিক নিবাসে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন উত্তরাঞ্চলের লিটলম্যাগ আন্দোলনের পুরোধা কবি সরোজ দেব। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহনকারী সরোজ দেব ১৯৪৮ সালের ২৬ মার্চ গাইবান্ধা শহরের পূর্বপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। বাবা প্রখ্যাত ধ্রুপদী সঙ্গীত শিল্পী ওস্তাদ উপেন্দ্র নাথ দেব ও মাতা সান্তু দেব।p

বার ভিউ হয়েছে
0Shares

COMMENTS