
আক্কেলপুরে গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার!

আক্কেলপুর(জয়পুরহাট) প্রতিনিধিঃ ২৪ জুলাই/২০২২ইং জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে রান্না ঘর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় মারুফা আক্তার (৩২) নামের এক গৃহবধুর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। ঘটনাটি উপজেলার সোনামুখি ইউনিয়নের কাঁঠালবাড়ি গ্রামে ঘটেছে। গৃহবধু ওই গ্রামের মাদ্রাসা শিক্ষক কাজী রুহুল আমিনের স্ত্রী।
পুলিশ, স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রবিবার সকালে ওই গ্রামের স্বামীর তালাবদ্ধ বাড়ির রান্নাঘরের ভাঙ্গা জানালা দিয়ে কাজী রুহুল আমিনের ভাতিজা জিহাদ ঝুলন্ত লাশ দেখতে পায়। তার চিৎকারে স্থানীয়রা এসে ভাঙ্গা জানালা দিয়ে প্রবেশ করে ঝুলন্ত লাশটি নামিয়ে থানা পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ওই বাড়ির তালা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে লাশটি উদ্ধার করে থানায় নেয়। এর আগে যৌতুকের টাকা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ বিবাদ লেগেই থাকত। এরই জের ধরে ঘটনাটি ঘটতে পারে বলে জানিয়েছে নিহতের পরিবার। এই ঘটনার পর থেকে স্বামী কাজী রুহুল আমিন নিখোঁজ রয়েছে। নিহত মারুফা আক্তার নাটোরে বেসরকারি এনজিও প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। তিনি ক্ষেতলাল উপজেলার মামুদপুর গ্রামের ইদ্রিস আলীর মেয়ে। গত কয়েক মাস পূর্বে তাদের বিয়ে হয়।
নিহতের বোন মাসুদা খাতুন বলেন, ‘যৌতুকের দাবিতে তার স্বামী তাকে প্রায় মারধর করত। এমনকি নাটোরে তার কর্মস্থলে গিয়েও টাকার দাবিতে মারধর করত। এ কারণে আমার বোনকে হত্যা করেছে বলে আমরা ধারনা করছি’।
নিহতের মা মাহবুবা খাতুন বলেন, ‘আমার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। সে আত্মহত্যা করতে পারেনা। মেয়ের লাশ ঝুলন্ত থাকলেও তার পা মাটিতে লেগে ছিল। জামাই বিভিন্ন সময় টাকা দাবি করছিল, টাকা না দেওয়ায় আমার মেয়েকে সে মেরে ফেলেছে’।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত কাজী রুহুল আমিন পলাতক থাকায় তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে কাঁঠালবাড়ি আর.কে.এম মাদ্রাসার সুপার গোলাম আযম বলেন, ‘রুহুল আমিন আমার মাদ্রাসার এবতেদায়ি শাখার সহকারি মৌলভী। গত শনিবার তার স্ত্রী আমাকে মুঠোফোনে জানায় যে তার স্বামী তালাক দিয়েছে। পরে বিষয়টি নিয়ে তার স্বামীর সাথে কথা বললে সে অস্বীকার করে। তবে পারিবারিক কলহের জেরে ঘটনাটি ঘটতে পারে। ঘটনার পরে সে মাদ্রাসায় অনুপস্থিত রয়েছে’।
আক্কেলপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু বক্কর সিদ্দীক বলেন, ‘খবর পেয়ে লাশটি উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। এঘটনায় মেয়েটির পরিবার থানায় মামলা করেছেন। ময়না তদন্তের জন্য লাশটি মর্গে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট আসলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে’।